![]()
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সম্প্রতি বাড়লেও সর্বশেষ দিনে কিছুটা কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সূচক ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর মে সরবরাহ চুক্তির দাম কমে হয়েছে ৮৯.৩১ ডলার। জুন সরবরাহ চুক্তিতে WTI প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে ৮৭.৩৫ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা শুরু হওয়ার খবর তেলের দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, চলমান উত্তেজনা কমে এলে সরবরাহ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হতে পারে।
এর আগে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া এবং একটি ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দের ঘটনায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়, যার ফলে তেলের দাম একদিনেই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের নজর সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে—যেখানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো বা চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, রাশিয়া-র তুয়াপসে বন্দর-এ ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে জ্বালানি উৎপাদন কমে গেছে। দেশটির প্রধান জ্বালানি কোম্পানি রোসনেফট-এর এই হাব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া ইউরোপমুখী পাইপলাইন সরবরাহ বন্ধ থাকা এবং দ্রুজবা পাইপলাইন-এ সরবরাহ বন্ধের প্রস্তুতিও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি তেলের দাম কিছুটা কমালেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।