![]()
গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমকে সামনে রেখে বৈশ্বিক বিমান খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে জেট ফুয়েলের সম্ভাব্য সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক এয়ারলাইনসের ওপর। এর ফলে ফ্লাইট বাতিল, সময়সূচি কমানো এবং বিমানভাড়া বাড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র-এ সরাসরি জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা কম, তবুও বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় মার্কিন এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে, যার প্রভাব যাত্রীদের ওপর পড়ছে।
জ্বালানি খরচ এয়ারলাইনসগুলোর জন্য শ্রম ব্যয়ের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যয় হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বড় এয়ারলাইনসগুলো ইতোমধ্যে কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে এবং সস্তা ভাড়ার টিকিট বাতিল করছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস তাদের পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। একইভাবে ডেল্টা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তাদের অতিরিক্ত বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এতে করে গ্রীষ্মকালীন সময়ে ভ্রমণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব সামনে এসেছে, যেখান দিয়ে বৈশ্বিক জেট ফুয়েলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইন-এর মতো রপ্তানিকারক দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহও এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এশিয়ার শীর্ষ পরিশোধনকারী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া-সহ বিভিন্ন দেশ রপ্তানি সীমিত করতে শুরু করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
উচ্চ জ্বালানি মূল্য স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইনসগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ফলে বাজারে সস্তা ফ্লাইটের সংখ্যা কমে গিয়ে সামগ্রিকভাবে বিমান ভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, আসন্ন গ্রীষ্মে ভ্রমণ ব্যয় বাড়বে এবং যাত্রীদের আগের তুলনায় বেশি খরচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।