![]()
দেশের বিদ্যুৎ খাতে ব্যাংক ঋণ ও বকেয়া অর্থ দুই-ই বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী Iqbal Hasan Mahmud Tuku।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। এই বিপুল ঋণ এখন পুরো খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।
সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকারকে শুধু স্থানীয় উৎস নয়, আমদানির ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ কেনা বাবদ বকেয়া বাড়তে বাড়তে ইতোমধ্যে ৫২ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে।
এই বকেয়ার মধ্যে রয়েছে—
- গ্যাস বিল বাবদ পেট্রোবাংলার পাওনা: ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা
- ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বকেয়া: ৩ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা
- বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি ও জ্বালানি বিল: ১৭ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা
- কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বকেয়া: ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা
- সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির পাওনা: ৫ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা
- সঞ্চালন ও বিতরণ চার্জ: প্রায় ১৯৮ কোটি টাকা
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঋণ ও বকেয়ার চাপ দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ বিক্রির টাকা সময়মতো না পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ঋণ পরিশোধে সংকটে পড়েছে। ফলে নতুন করে ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান খেলাপির ঝুঁকিতে পড়ছে।
উদ্যোক্তাদের সংগঠনও মনে করছে, বকেয়া দ্রুত সমাধান না হলে পুরো বেসরকারি বিদ্যুৎ খাতে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ খাত এখন একদিকে বিশাল ঋণের বোঝা, অন্যদিকে বিপুল বকেয়ার চাপ—দুই দিক থেকেই আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।