![]()
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না এবং যে কোনো মুহূর্তে আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে। রোববার ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চলমান যুদ্ধবিরতি ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই তার এই সতর্কবার্তা সামনে এলো। দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান না আসায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় আরও গভীর হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি রেডিও-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সামরিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ জোরদার
ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ আরও কঠোর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অভিযানে ১২টির বেশি যুদ্ধজাহাজ, ১০ হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য এবং বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এই নৌ-বেষ্টনীর অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ইরান-সংশ্লিষ্ট অন্তত ২৩টি জাহাজকে থামিয়ে হরমুজ প্রণালি থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই কার্যক্রমকে ‘মেরিটাইম ইন্টারডিকশন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার মধ্যে সন্দেহভাজন জাহাজ থামানো ও তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত।
আন্তর্জাতিক জলসীমায়ও অভিযান বিস্তারের পরিকল্পনা
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নৌ-অবরোধের পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে। অতীতে ভেনেজুয়েলা-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের মতো এবারও আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।
এ ক্ষেত্রে বিশেষায়িত নৌ ইউনিট এবং বোর্ডিং টিম ব্যবহার করে জাহাজে তল্লাশি চালানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধের চেষ্টা
বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সমুদ্রপথে পরিচালিত প্রায় সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ করে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে আলোচনায় আনতে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।