• হোম > এক্সক্লুসিভ | বাণিজ্য | বিদেশ > জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি, জিডিপি বেড়েছে ৫%

জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি, জিডিপি বেড়েছে ৫%

  • শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৬
  • ৯১

---

আবাসন খাতের সংকট ও বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেও চীনের অর্থনীতির নতুন গতি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিবিসি।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি

চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) চীনের জিডিপি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির অর্থনীতিবিদরা এর আগে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। আগের প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, গত মাসেই বেইজিং বার্ষিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করে, যা ১৯৯১ সালের পর সর্বনিম্ন।

প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি ও আবাসন সংকট

চলতি বছরের অর্থনৈতিক উত্তরণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দেশটির উৎপাদন খাত। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক কাইল চ্যানের মতে, গাড়ি ও অন্যান্য পণ্যের রফতানি এক্ষেত্রে অন্যতম চালিকা হিসেবে কাজ করেছে। তবে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সাফল্য এলেও দেশটির আবাসন খাতের সংকট এখন অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, খাতটিতে বিনিয়োগ ক্রমাগত কমছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব ও জ্বালানি সংকট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর বড় প্রভাব পড়েছে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। চীনের অর্থনীতিতে এ যুদ্ধের পূর্ণ প্রভাব এখনো স্পষ্ট না হলেও বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন চলতি প্রান্তিকের জিডিপি পরিসংখ্যান কিছুটা দুর্বল হতে পারে। যুদ্ধজনিত কারণে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও ভোক্তা ব্যয় কমে আসায় এরই মধ্যে মার্চে দেশটির রফতানিতে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

চীনের কাস্টমস দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা শেষ ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ২০ শতাংশের বেশি।

ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও বৈশ্বিক উত্তেজনা

অভ্যন্তরীণ সংকটের পাশাপাশি চীনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি। বর্তমানে অধিকাংশ চীনা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপিত আছে। তবে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বাতিল হওয়া পূর্বের উচ্চ শুল্কহার জুলাইয়ের শুরুতেই পুনরায় কার্যকর হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন এখন চেষ্টা করছে জনসংখ্যা কমে যাওয়া, আবাসন খাতের সংকট এবং মানুষের কম খরচ করার প্রবণতার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে। একটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা এখন দেশটির প্রধান লক্ষ্য।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চীনের অর্থনীতি এ সংকটময় মুহূর্তে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলেও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তাপ আগামী দিনগুলোয় বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8948 ,   Print Date & Time: Friday, 9 October 2026, 06:44:20 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh