![]()
হরমুজ প্রণালির ওমান-সংলগ্ন অংশ দিয়ে চলাচল করা জাহাজগুলোকে আক্রমণ না করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তবে তেহরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো ছাড় কার্যকর হবে কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পরই।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান এই প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে, চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রণালির ওপর তাদের কৌশলগত অবস্থান বহাল থাকবে।
এদিকে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মধ্যেও বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ইরানের একটি সুপার ট্যাংকারও রয়েছে বলে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্যসূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল আমদানির ওপর দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আর না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সমুদ্রে থাকা এসব তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছে চীন। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফোনালাপে এই আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যেই জ্বালানি সংকট ও মূল্য অস্থিরতার মুখে পড়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনে বড় প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) তথ্য অনুযায়ী, জেট ফুয়েল সরবরাহ নিয়ে ইউরোপে নতুন সংকট দেখা দিতে পারে। বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ এখন মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, চলতি মাসে পেট্রোলের দাম কিছুটা কমে প্রতি গ্যালন ৩ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়বে।