![]()
ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি আর নবায়ন করবে না বলে জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তার সরকার চুক্তি নবায়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নবায়নযোগ্য এই চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে রোম ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার প্রতীক ছিল।
সম্প্রতি ইতালি-ইসরায়েল সম্পর্কের অবনতির পেছনে একাধিক ঘটনা কাজ করেছে। লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা ইতালীয় বাহিনীর একটি বহরের দিকে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি ছোড়ার ঘটনায় রোম ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ইসরায়েল–এর রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলও ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে, বিশেষ করে লেবাননে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার নিন্দা জানানোর পর।
তথ্য অনুযায়ী, স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) বলছে, ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানিতে ইতালির অবস্থান তৃতীয় হলেও মোট আমদানির খুব সামান্য অংশই ইতালি থেকে আসে। তবে গাজা ও লেবানন ইস্যুতে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ইতালিতেও ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের দাবি জোরালো হয়েছে।
দেশীয় রাজনীতিও এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গণভোটে হেরে যাওয়ার পর জর্জিয়া মেলোনি সরকারের জনপ্রিয়তা প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনোভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে তিনি পররাষ্ট্রনীতিতে কিছুটা অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে মেলোনির সম্পর্কেও টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে মেলোনি কড়া প্রতিক্রিয়া জানান, বিশেষ করে পোপ পোপ চতুর্দশ লিও–কে নিয়ে মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেন। পরবর্তীতে ট্রাম্পও মেলোনির সমালোচনা করে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সব মিলিয়ে, ইতালির এই সিদ্ধান্ত শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।