![]()
গত সপ্তাহে আন্দামান সাগর–এ ট্রলারডুবির এক মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ২৫০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম জানিয়েছে, ট্রলারটি বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল এবং তীব্র বাতাস, উত্তাল সমুদ্র ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের কারণে এটি ডুবে যায়।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড জানায়, গত ৯ এপ্রিল তাদের একটি জাহাজ ট্রলারটি থেকে নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তবে দুর্ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া এক যাত্রী জানান, তিনি প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলেন এবং ট্রলার থেকে ছড়িয়ে পড়া তেলের আগুনে আহত হয়েছেন।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভিযানের পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন, সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং কমতে থাকা সহায়তার কারণে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় মালয়েশিয়াকে তারা তুলনামূলক নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করেন।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বলছে, এই দুর্ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি ও সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। পাচারকারীদের ব্যবহৃত এসব ট্রলার সাধারণত অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়, যেখানে পানি, খাদ্য ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক সুবিধারও অভাব থাকে। ফলে অনেক ট্রলার গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনার শিকার হয়।
সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।