![]()
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় বৈশ্বিক কমোডিটি ট্রেডিং খাত বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। সাধারণত সংকটময় পরিস্থিতিতে এই খাত লাভবান হলেও এবার পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে—বড় বড় ট্রেডিং হাউজকে গুনতে হয়েছে বিলিয়ন ডলারের লোকসান।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Oliver Wyman জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ছয় সপ্তাহে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। একই তথ্য তুলে ধরেছে Financial Times।
কেন লোকসান হলো?
মূল কারণগুলো ছিল একাধিক—
১. তেলের দামের ভুল পূর্বাভাস
যুদ্ধের আগে ব্যবসায়ীরা ধারণা করেছিলেন, তেলের দাম কমবে। কিন্তু সংঘাত শুরু হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম হঠাৎ বেড়ে যায়, যা তাদের কৌশলকে ব্যর্থ করে দেয়।
২. পারস্য উপসাগরে জাহাজ আটকে যাওয়া
পারস্য উপসাগর অঞ্চলে শতাধিক তেলবাহী ট্যাংকার আটকে পড়ে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে যায় এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
৩. মার্জিন কলের চাপ
অনেক ট্রেডার Brent Crude ফিউচার মার্কেটে দাম কমার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের অতিরিক্ত নগদ অর্থ জমা দিতে হয়েছে (মার্জিন কল), যা তারল্য সংকট তৈরি করে।
৪. চুক্তি রক্ষায় বেশি দামে তেল কেনা
আগে থেকে কম দামে বিক্রির চুক্তি থাকলেও সরবরাহ দিতে না পারায় বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনে চুক্তি পূরণ করতে হয়েছে—এতে খরচ বহুগুণ বেড়েছে।
কোন কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত?
বিশ্বের বড় ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান যেমন—
- Vitol
- Trafigura
- Mercuria
যুদ্ধের শুরুর দিকে বড় লোকসানে পড়ে। যদিও পরবর্তীতে কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিক ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে।
অতিরিক্ত চাপ: ঋণ ও খরচ বৃদ্ধি
অস্থিতিশীলতা সামাল দিতে বড় ট্রেডিং হাউজগুলোকে বাড়তি ঋণ নিতে হয়েছে। যেমন—
- Vitol ও Trafigura: প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার করে
- Gunvor: প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার
এছাড়া ট্রেডিং পরিচালনার খরচও বেড়েছে—প্রযুক্তি, ডেটা ও টার্মিনাল ব্যয় ২০২১ সালের তুলনায় ৩০% এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পার্থক্য
২০২২ সালে Russia-Ukraine War চলাকালে এই খাত রেকর্ড মুনাফা করেছিল। কিন্তু এবারের যুদ্ধ দেখিয়েছে—সব অস্থিরতা ব্যবসার জন্য লাভজনক নয়।
সামগ্রিক চিত্র
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি “একবারে বিরল” ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। হঠাৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়া এবং আর্থিক চাপ—সব মিলিয়ে কমোডিটি ট্রেডিং খাতকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।