![]()
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সংকটে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর উৎপাদন প্রায় বন্ধের মুখে পড়েছে। বর্তমানে ডেড স্টকের ওপর নির্ভর করে সীমিত আকারে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি ব্যাহত হওয়া। এর ফলে রোববার থেকে রিফাইনারির প্রধান ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমানে যেসব ইউনিট চালু আছে, সেগুলো দিয়ে সীমিত পরিসরে পেট্রল ও অকটেন উৎপাদন হচ্ছে। তবে ডিজেল ও বিটুমিন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোপুরি বন্ধ না হলেও পরিস্থিতি সংকটপূর্ণ। নতুন করে ক্রুড অয়েল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে এবং মে মাসের দিকে সরবরাহ আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদার বড় অংশই পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বছরে মোট ৬৫–৬৮ লাখ টন তেলের মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশই পরিশোধিত, ফলে ইআরএলের উৎপাদন কমে গেলেও তাৎক্ষণিক বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা কম।
ইআরএল সাধারণত বছরে ১৫ লাখ টনের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে। তবে সাম্প্রতিক সংকটে উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক প্রায় ৩৫০০ টনে নামানো হয়েছিল, যা আগে ছিল প্রায় ৪৫০০ টন।
শেষবার ক্রুড অয়েলের চালান দেশে আসে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। এরপর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে একাধিক চালান বাতিল হয়ে যায়। বিশেষ করে সৌদি আরবের রাস তানুরা ও আবুধাবি থেকে আসার কথা থাকা জাহাজগুলো আটকে পড়ে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত থাকায় দেশের জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।