![]()
প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমান কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল করার লক্ষ্যে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালুর কথা জানিয়েছেন। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো কৃষকদের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।
উদ্বোধনের অংশ হিসেবে দেশের ১১টি উপজেলায় প্রি-পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়। এ সময় ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাবে মোবাইলের মাধ্যমে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে প্রতীকীভাবে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য ১০টি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবার কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত— তাই কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দলীয় অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে— এই বিশ্বাস থেকেই সরকার কৃষকদের সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।
সরকার আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বলেও জানান তিনি।
ভাষণে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর কৃষি খাতে অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং খালেদা জিয়া-এর সময়ের বিভিন্ন উদ্যোগের উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে।
নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী— তাদের স্বাবলম্বী না করলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত, সংরক্ষণ ব্যবস্থা (যেমন কোল্ড স্টোরেজ) গড়ে তোলা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে কৃষক যেমন লাভবান হবে, তেমনি দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।
শেষে দেশ গঠনে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারেক রহমান।