![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলার ঐতিহ্য ও গ্রামীণ শেকড়ের শক্তিকে সামনে রেখে গতকাল রাত ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হলো এক তাৎপর্যপূর্ণ ওয়েবিনার—“বাঁশ বেত পাটি শিল্প মঞ্চ: বৈশাখী-১৪৩৩”। এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো বাঁশ বেত পাটি শিল্প মঞ্চ, যা দেশীয় হস্তশিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পহেলা বৈশাখের আবহে আয়োজিত এই ওয়েবিনারটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নয়; বরং এটি ছিল দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার সূচনা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ আলমগীর, উপদেষ্টা, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও এন্টারপ্রেনিয়র বাংলাদেশ। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই মঞ্চের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং দেশীয় শিল্পকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এসএম জিল্লুর রহমান, চেয়ারম্যান, বাঁশ বেত ফাউন্ডেশন এবং বাবুল ইসলাম, উপদেষ্টা, বাঁশ বেত ফাউন্ডেশন। তারা উভয়েই বাঁশ, বেত ও পাটি শিল্পের সম্ভাবনা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কারিগরদের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ওয়েবিনারের কী-নোট স্পিকার ছিলেন মোঃ আবুল কালাম, নির্বাহী পরিচালক, BBCMF। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে এই খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্র্যান্ডিংয়ের কৌশল।
এছাড়া স্পিকার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন M Saiful Islam Muazzem, আহসান উল্লাহ, শাহনাজ খানম, লিটন অধিকারী এবং Sweety Sutra Dhar। তারা প্রত্যেকে তাদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এই শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহিদুজ্জামান সাঈদ, এডিটর-ইন-চিফ, এন্টারপ্রেনিয়র বাংলাদেশ। তাঁর সমাপনী বক্তব্যে তিনি জানান, এই মঞ্চের মাধ্যমে সারা মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য দেশজ বাঁশ, বেত ও পাটি শিল্পকে নতুনভাবে সংগঠিত ও সম্প্রসারিত করা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বাঁশের গ্রাম গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আমরা পরিবেশ ও জলবায়ু পুনরুদ্ধারের একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে চাই।” এই প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়েই ওয়েবিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশীয় শিল্পের পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে টেকসই উন্নয়নের পথও সুগম হবে।