![]()
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ব্যর্থ বৈঠকের পরও ইরান নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ২০ বছরের বদলে পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ২০ বছরের স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দিলেও তেহরান তুলনামূলকভাবে কম মেয়াদের একটি বিকল্প প্রস্তাব সামনে এনেছে। আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে রাশিয়ার কাছে সংরক্ষণ বা হস্তান্তরের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে মূল বিরোধ এখনো পরমাণু কর্মসূচি ঘিরেই রয়ে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, ইরান যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ না করে, তাহলে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।
এর আগে ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার একটি বৈঠক ব্যর্থ হয়। এরপর মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয় বলে রয়টার্স ও এপি জানিয়েছে। নতুন করে দ্বিতীয় দফা বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ বা বাইরের চাপের কোনো উদ্যোগ তারা মানবে না, এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখেছে, আর হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নৌপথ ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো, যদিও আস্থার সংকট এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।