![]()
১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণের ঘোষণা দিলে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি ইডেন কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইজেনহাওয়ার সেই অভিযানে সমর্থন দেননি। ফলাফল ছিল উল্টো—মিশর খালের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, নাসের আরও শক্তিশালী হন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটেনের প্রভাব নাটকীয়ভাবে কমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ইরান সংকটেও কিছুটা সেই ইতিহাসের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তার কৌশল বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ইরানের কঠোর অবস্থান, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক চাপ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জটিল এক কূটনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে।
এদিকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর। ডানপন্থী সমর্থকদের একাংশ তার নীতির সমালোচনা করছে, আবার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন দিচ্ছে না, যা বৈশ্বিক জোট রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে বড় ধরনের প্রভাবের দিকে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমা ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যেমন সুয়েজ সংকট ব্রিটিশ আধিপত্যের পতনকে দৃশ্যমান করেছিল, তেমনি হরমুজ কেন্দ্রিক বর্তমান উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে। যদিও এখনও যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও প্রভাব অটুট, তবুও এই সংকট ভবিষ্যতের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।