• হোম > বাংলাদেশ > ২০০ বছরের ঐতিহ্য: শেরপুরের পৌষ মেলার অজানা ইতিহাস

২০০ বছরের ঐতিহ্য: শেরপুরের পৌষ মেলার অজানা ইতিহাস

  • মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৬
  • ১০৪

---

২০০ বছরের পৌষ মেলার অজানা কাহিনি

শেরপুর, ১৪ এপ্রিল: উত্তরাঞ্চলের জেলা Sherpur-এর নবীনগর এলাকায় প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে বসে এক ঐতিহ্যবাহী মেলা—পৌষ মেলা। প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই মেলাকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা, বিশ্বাস ও ইতিহাস।

???? মেলার সূচনা ও জনশ্রুতি

স্থানীয়দের মতে, নবীনগর এলাকায় প্রায় তিন একর জমির ওপর গড়ে ওঠে ‘ছাওয়াল পীর’-এর একটি দরগা। এই দরগাকেই কেন্দ্র করে শুরু হয় পৌষ মেলার যাত্রা।

স্থানীয় প্রবীণ আইনজীবী ফকির আকতারুজ্জামান জানান, মেলার সঠিক সূচনার সময় জানা না গেলেও পূর্বপুরুষদের কাছ থেকেই এই ঐতিহ্য চলে আসছে। জনশ্রুতি রয়েছে, ছাওয়াল পীরের আগমন এবং তার কবরকে ঘিরেই মেলার শুরু।

???? ছাওয়াল পীরের রহস্যময় কবর

লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, ছাওয়াল পীর মূলত অন্য এলাকা থেকে এখানে আনা হয়। প্রথমে উত্তর-দক্ষিণ দিক করে কবর দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বারবার মাটি ভেঙে পড়ে। পরে পূর্ব-পশ্চিম দিকে কবর খোঁড়া হলে সেটি স্থায়ী হয়।

এই ঘটনাকে অনেকেই অলৌকিক বলে মনে করেন এবং এখান থেকেই দরগাটির প্রতি মানুষের বিশ্বাস তৈরি হয়।

???? মানত ও স্বপ্নের গল্প

আরেকটি প্রচলিত কাহিনিতে জানা যায়, এক কৃষক জমিতে কাজ করার সময় বারবার মইয়ের রশি ছিঁড়ে যাচ্ছিল। পরে তিনি মানত করেন—সমস্যা দূর হলে পীরের মাজারে শিন্নি দেবেন।

এরপর সমস্যার সমাধান হলেও তিনি মানত ভুলে যান। এক রাতে স্বপ্নে ছাওয়াল পীর তাকে স্মরণ করিয়ে দেন। পরদিন মানত পূরণ করার পর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করে।

ধীরে ধীরে দরগাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এই মেলা, যা আজও চলমান।

???? গ্রামবাংলার প্রাণের উৎসব

বর্তমানে দরগার পাশেই রোয়া বিলের তীরে বিশাল পরিসরে বসে মেলা। এখানে পাওয়া যায়—

  • মুড়ি-মুড়কি, মোয়া, গজা, খোরমা
  • তিলের খাজা, বাদাম, চানাচুর
  • মৃৎশিল্পের খেলনা ও তৈজস
  • চুড়ি, মালা ও নারীদের প্রসাধনী

মেলায় আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।

???? প্রধান আকর্ষণ

একসময় এই মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গাঙ্গি খেলা। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিযোগীরা অংশ নিতে আসতেন, যা মেলাকে আরও জমজমাট করে তুলত।

⚠️ ঐতিহ্য হারানোর শঙ্কা

স্থানীয়দের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলার জৌলুস কিছুটা কমেছে। তবুও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছরই এই আয়োজন করা হয়।

অনেকেই মনে করেন, একটি স্থায়ী আয়োজন কমিটি থাকলে এই ঐতিহ্য আরও সুসংগঠিত ও টেকসই হতো।

❤️ সংস্কৃতির ধারক এই মেলা

শেরপুরের এই পৌষ মেলা শুধু একটি গ্রামীণ উৎসব নয়, বরং এটি লোকবিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা ও বাঙালির ঐতিহ্যের এক জীবন্ত নিদর্শন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8778 ,   Print Date & Time: Thursday, 8 October 2026, 07:20:47 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh