![]()
ইরানের সব সমুদ্রবন্দর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump—যা তার পরিবর্তনশীল কৌশলের আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানকে চাপে ফেলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য Strait of Hormuz পুনরায় উন্মুক্ত করা।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার থেকে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোর প্রবেশপথে অবরোধ আরোপ করবে এবং যেসব জাহাজ ইরানকে ‘টোল’ দেবে, সেগুলোকে আটকানো হবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, অন্যান্য দেশের সামরিক বাহিনীও এ অভিযানে যুক্ত হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তার দেশ এ অবরোধে সমর্থন দেবে না। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese জানান, তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো সহায়তা চাওয়া হয়নি এবং তিনি সংঘাত নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Margarita Robles ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে ‘অর্থহীন’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব ক্রমেই গভীর সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে ছয় সপ্তাহ অতিক্রম করেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ট্রাম্পের নতুন অবরোধ ঘোষণার পর তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে—যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেই এই অবরোধ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তুরস্কের TED University-এর অধ্যাপক আহমেত কাসিম হান মনে করেন, ইরান ইতোমধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে এবং আরও চাপ সহ্য করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশ সরাসরি অবস্থান না নিলেও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সুরে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীও উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Guo Jiakun বেইজিং থেকে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, চীন শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের অবরোধ ঘোষণা তাৎক্ষণিক চাপ সৃষ্টি করলেও, আন্তর্জাতিক সমর্থনের অভাব এবং বৈশ্বিক উদ্বেগ—এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।