![]()
সরকার জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করা হলেও বিষয়টি পুরোপুরি স্থগিত নয়; বরং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে বিল আকারে সংসদে আনা হবে।
রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন)সহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে বিল আকারে আনা হয়নি, ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে। এসব বিষয়ে এখন পুনরায় যাচাই–বাছাই করে নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সরকার আরও জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি সংসদে অনুমোদিত হয়েছে, কিছু সংশোধিত আকারে। সাতটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে এবং বাকি ১৬টি নির্ধারিত সময়ে অনুমোদন না পাওয়ায় বিলম্বে কার্যকারিতা হারিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে আরও পরামর্শ ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। এ কারণে এগুলো এখনই চূড়ান্ত আইন হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, এসব অধ্যাদেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও যাচাই–বাছাই প্রয়োজন। তাই ভবিষ্যতে সংশোধিত ও পরিমার্জিত আকারে নতুন বিল আনা হবে।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও রাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গের সঙ্গে সমন্বয় রেখে “ভারসাম্যপূর্ণ আইন” প্রণয়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কিছু বিষয়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক ব্যাখ্যার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সরকার জানিয়েছে—অধ্যাদেশগুলো বাতিল বা স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়নি, বরং এগুলো পুনর্বিবেচনা করে ভবিষ্যতে নতুন করে আইন আনার প্রক্রিয়া চলবে।