• হোম > বাংলাদেশ > ভেদরগঞ্জে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ প্রদানের অভিযোগ

ভেদরগঞ্জে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ প্রদানের অভিযোগ

  • শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১৬
  • ৭১

---

আজকের শরীয়তপুর প্রতিবেদকঃ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়ন ০৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লোকমান হোসেন সরদারের বিরুদ্ধে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সেলিনা খানম নামে এক ভুক্তভোগী।

লিখিত অভিযেগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ০৪নং ওয়ার্ডের মৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম শেখ দীর্ঘদিন আগেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি মোঃ মাসুদ আজাদ ও সামাদ আজাদ নামে দুই সন্তান রাখিয়া যান। পরবর্তীতে বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম শেখের ছেলে মাসুদ আজাদ মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী সেলিনা খানম, সন্তান ইব্রাহিম ও ইসমাইল শুভকে রেখে যান। কিন্তু ইউপি সদস্য লোকমান হোসেন সরদার টাকার বিনিময়ে উদ্দেশ্য প্রণীত ভাবে মৃত মাসুদ আজাদ ও তার ওয়ারিশগণের নাম বাতিল করে একটি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেন। সেই ওয়ারিশ সনদের মাধ্যমে কারসাজি করে সামাদ আজাদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আবুল কালাম শেখের ভাতা একাই আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নজরে এলে ইউপি সদস্য লোকমান হোসেন সরদারকে জানানো হলে তিনি ওয়ারিশ সনদটি সংশোধন না করেই তালবাহানা করে। পরে বিষয়টি নিয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অর্থ সংকটে বর্তমানে মাসুদ আজাদের পরিবারটি মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

এ বিষয়ে মাসুদ আজাদের স্ত্রী সেলিনা খানম বলেন, আমার শ্বশুর বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত আবুল কালাম শেখ মারা যাওয়ার পথে আমার স্বামী ও দেবরকে রেখে যান। দুঃখজনক বিষয় আমার স্বামী মারা যাওয়ার পরে আমার দেবর সামাদ আজাদ ইউপি সদস্য লোকমান হোসেন সরদারের মাধ্যমে একটি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে আমার শ্বশুরের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা একাই আত্মসাৎ করছেন। বিষয়টি আমি জানতে পেরে, ইউপি সদস্যকে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। পরে বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করি। আমি চাই আমার শ্বশুরের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ওয়ারিশদের মাঝে সমানভাবে বণ্টন করা হউক। পাশাপাশি ভুয়া ওয়ারিশ সনদের সাথে জড়িত ইউপি সদস্যের সর্বোচ্চ বিচারের দাবি জানাই।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য লোকমান হোসেনের বাড়িতে গেলে তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওয়ারিশ সনদটি ভুলবশঃত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবেন না বলে তিনি জানান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উল্লেখিত বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রচার না করার জন্য অনুরোধ করেন।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাফিজুল হক বলেন, ওয়ারিশ সনদে জালিয়াতি ও একক ভাবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8673 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 01:20:05 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh