![]()
বাংলাদেশে বর্তমানে চলমান হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে অনেক অভিভাবকের প্রশ্ন—আগে দুই ডোজ টিকা নেওয়া থাকলে আবার অতিরিক্ত ডোজ কেন প্রয়োজন? এর মূল ব্যাখ্যা হলো Herd Immunity এবং হামের অত্যন্ত সংক্রামক প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। হাম এমন একটি রোগ, যা একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে গড়ে ১২–১৮ জন পর্যন্ত অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে এবং এর ভাইরাস বাতাসে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকতে পারে। তাই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা জরুরি।
টিকা নেওয়ার পরও সব শিশুর শরীরে সমানভাবে বা সম্পূর্ণরূপে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না। ফলে কিছু শিশু দুই ডোজ নেওয়ার পরও পুরোপুরি সুরক্ষিত নাও থাকতে পারে। এজন্য গণটিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া হয়, যাতে যাদের আগে পর্যাপ্ত ইমিউনিটি তৈরি হয়নি তারা সুরক্ষা পায় এবং যাদের কম ছিল তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়। হার্ড ইমিউনিটির ক্ষেত্রে শুধু টিকা নেওয়া মানুষের সংখ্যা নয়, বরং কার্যকরভাবে সুরক্ষিত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে আলাদাভাবে নির্ণয় না করে সবাইকে একসঙ্গে টিকা দেওয়া হয়, কারণ কার শরীরে কতটা ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে তা মাঠপর্যায়ে নির্ধারণ করা কঠিন। World Health Organization-এর নির্দেশনা অনুযায়ী গণটিকাদান কর্মসূচি দ্রুত ও কার্যকরভাবে জনগোষ্ঠীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এবং সংক্রমণের চেইন ভেঙে দেয়।
বাংলাদেশে এই টিকা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ২০১২ সাল থেকে এটি হাম-রুবেলা (MR) হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী বড় টিকাদান কর্মসূচিগুলোতেও অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া হলেও গুরুতর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এটি একটি নিরাপদ ও প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।
সব মিলিয়ে, আগে দুই ডোজ টিকা নেওয়া থাকলেও অতিরিক্ত ডোজের উদ্দেশ্য হলো জনগোষ্ঠীতে কার্যকর হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করা, যাতে কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ না থাকে এবং পুরো সমাজ সুরক্ষিত থাকে।