• হোম > অর্থনীতি > রাশিয়ার তেল ভারতে শোধন করে দেশে আনতে চায় বাংলাদেশ

রাশিয়ার তেল ভারতে শোধন করে দেশে আনতে চায় বাংলাদেশ

  • শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪১
  • ৬০

---
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ভারতে শোধন করে দেশে আমদানির পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এটিকে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখছেন।

ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেয়। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়, ফলে বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর আমদানির ঝুঁকি নতুন করে সামনে আসে।

এ প্রেক্ষাপটে সরকার ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ঘিরে একটি দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারত বাংলাদেশের হয়ে রাশিয়ার ক্রুড অয়েল আমদানি করে তা নিজস্ব রিফাইনারিতে পরিশোধন করবে এবং পরে পরিশোধিত জ্বালানি বাংলাদেশে রপ্তানি করবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এতে ক্রুড আমদানি, পরিশোধন ও পরিবহন ব্যয় বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বিদ্যমান রিফাইনিং সক্ষমতা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে। দেশটি ইতোমধ্যে রাশিয়ার তেল আমদানি ও প্রক্রিয়াজাত করে অভ্যন্তরীণ ব্যবহার এবং রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞ।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও এই উদ্যোগের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ রিফাইনারিটির বার্ষিক সক্ষমতা ১৫ লাখ টন এবং এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের হালকা ক্রুড শোধনের উপযোগী। ভারী রাশিয়ান তেল প্রক্রিয়াকরণে এটি ততটা কার্যকর নয়।

ফলে ডিজেল, অকটেন ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত পণ্যের জন্য বাংলাদেশকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে বিপুল ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে নতুন একটি উদ্যোগও বিবেচনায় রয়েছে। এর আওতায় দেশটির রিফাইনারিতে বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধন, বাংলাদেশে এলপিজি টার্মিনাল স্থাপন এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের উদ্যোগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, বৈশ্বিক তেলের বাজার অত্যন্ত অস্থির হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, একটি নির্দিষ্ট সরবরাহকারীর ওপর অতিনির্ভরতা ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার অংশ হিসেবে নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল আমদানি করছে। আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

সরকার আশা করছে, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং বিদেশি রিফাইনিং সক্ষমতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8637 ,   Print Date & Time: Thursday, 8 October 2026, 10:56:54 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh