![]()
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি জানিয়েছে, টানা মন্থর প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংকিং খাত ও স্থবির বেসরকারি বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে।
বুধবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া, রফতানি ও প্রবাসী আয়ে ধীরগতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৫ শতাংশে থাকতে পারে। একই সঙ্গে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২০২৫ সালে ২১.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, ফলে অতিরিক্ত প্রায় ১৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যে পড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে রাজস্ব ব্যবস্থা, আর্থিক খাত ও ব্যবসায়িক পরিবেশে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাত এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩০.৬ শতাংশে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে এবং দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, জ্বালানি খাতে বৈচিত্র্য আনা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।