• হোম > বিদেশ > যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: পাকিস্তানের শেষ মুহূর্তের মধ্যস্থতা চেষ্টায় কেন যোগ দিলেন জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: পাকিস্তানের শেষ মুহূর্তের মধ্যস্থতা চেষ্টায় কেন যোগ দিলেন জেডি ভ্যান্স

  • বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২০
  • ৫৯

---

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের মন্তব্যে সামনে এলো কূটনীতির নেপথ্যের চিত্র

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানান, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে, তবে তা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, “অপর পক্ষ আলোচনায় আগ্রহী ও সক্রিয়,” কিন্তু একই সঙ্গে সতর্ক করেন—বর্তমান প্রস্তাব “যথেষ্ট নয়”।

আলোচনায় কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন

প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেন যে, আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট J. D. Vance এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio। তিনি জানান, প্রশাসনের একাধিক ব্যক্তি এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্ত থাকলেও ভ্যান্স ও রুবিও এখন প্রধান মুখ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বীকৃতি দেখায় যে পর্দার আড়ালে চলা আলোচনায় ভ্যান্স ক্রমেই কেন্দ্রীয় ভূমিকায় উঠে আসছেন।

উত্তেজনার মাঝেই কূটনৈতিক তৎপরতা

যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহ পরও একটি সুসংহত কূটনৈতিক কৌশল দাঁড় করাতে হিমশিম খাচ্ছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যেই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে কূটনৈতিক সমাধানের পথে থাকার চেষ্টা করেন ভ্যান্স।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা শেষ মুহূর্তের উদ্যোগে তিনিই নীরবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে ওঠেন। লক্ষ্য—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি সংঘর্ষের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনা।

হুমকি ও পাল্টা হুমকির উত্তাপ

এরই মধ্যে ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে আল্টিমেটাম দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, তা না হলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে। পরে সামাজিক মাধ্যমে আরও কড়া ভাষায় তিনি লেখেন, “আজ রাতে একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।”

এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) পাল্টা সতর্কবার্তা দেয়, আক্রমণ বাড়লে তারাও সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে। এতে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও গোপন যোগাযোগ

মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানের উদ্যোগে দুই ধাপের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির সরাসরি যোগাযোগ করেছেন ভ্যান্স, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে।

মার্চের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই প্রচেষ্টায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হয়, যা ধীরে ধীরে একটি সম্ভাব্য আলোচনার ভিত্তি তৈরি করে।

কেন ভ্যান্সকে আলাদা চোখে দেখছে তেহরান

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান ভ্যান্সকে তুলনামূলকভাবে “কম সংঘাতমুখী” হিসেবে দেখে। কারণ—

  • তিনি শুরু থেকেই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন
  • পূর্বের আলোচনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন না
  • কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন

এই কারণেই ইরান মনে করছে, ভ্যান্স আলোচনায় একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হতে পারেন।

সংকটময় পর্যায়ে মধ্যস্থতা

ইসলামাবাদভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনা এখন “সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ” পর্যায়ে রয়েছে। প্রথমে আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ, পরে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি—এমন একটি ধাপে ধাপে কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে।

তবে সবকিছুর মধ্যেও ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক ভাষা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলছে। তিনি একদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা বলছেন, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

সামনে কী?

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো প্রক্রিয়া এখন অনেকটাই নির্ভর করছে—

  • ভ্যান্সের কূটনৈতিক প্রভাব
  • ইরানের নমনীয়তা
  • এবং ট্রাম্পের চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নির্ধারিত হবে—মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় সংঘাতের দিকে যাবে, নাকি কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8589 ,   Print Date & Time: Thursday, 8 October 2026, 06:57:38 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh