![]()
ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরে টানা ২৮ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে নোঙর তুলেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৮টায় জাহাজটি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)-এর মালিকানাধীন জাহাজটিতে বর্তমানে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে জাহাজটি রওনা হয়েছে। হরমুজ প্রণালির মুখে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ ঘণ্টা সময় লাগবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের পর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে জাহাজটি প্রণালি অতিক্রম করবে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে প্রায় ৯.৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে অগ্রসর হচ্ছিল।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন থেকেই সংঘাত শুরু হলে জাহাজটি আটকা পড়ে।
১১ মার্চ পণ্য খালাস শেষে কুয়েতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝুঁকি এড়াতে জাহাজটিকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তা সম্ভব হয়নি এবং জাহাজটি দীর্ঘদিন একই এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হয়। ২৮ দিনের উৎকণ্ঠা শেষে এখন আবার যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ‘নর্ডিক পলক্স’
অন্যদিকে, গত ৩ মার্চ থেকে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকে রয়েছে ‘নর্ডিক পলক্স’ নামের একটি তেলের ট্যাংকার। এতে বাংলাদেশের জন্য প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
বিএসসি জানায়, এখনো কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র পায়নি। তবে ‘বাংলার জয়যাত্রা’কে আগেভাগেই রওনা করানো হয়েছে, যাতে সময়মতো ক্লিয়ারেন্স পাওয়া গেলে দ্রুত প্রণালি অতিক্রম করা যায়।
‘নর্ডিক পলক্স’-এর ক্ষেত্রে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মার্কিন মালিকানাধীন হওয়ায় এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এর ছাড়পত্র প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আটকে থাকায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।