![]()
জাতীয় সংসদের বুধবারের সকালের অধিবেশনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬’ সহ মোট পাঁচটি বিল পাস করা হয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে সব বিল কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬’ পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। সেই অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে কার্যকর থাকলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এটি পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে আইন হিসেবে পাসের সুপারিশ করেছিল। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিলটি সংসদে উত্থাপন ও পাস করা হয়।
বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান পেশকৃত বিলটি মাত্র হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত বুঝতে সময় চেয়েছিলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, চূড়ান্ত পর্যায়ে বিলের ওপর নতুন কোনো আপত্তি বা সংশোধনী গ্রহণের সুযোগ নেই। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, গণহত্যার জন্য দায়ী সংগঠনগুলোর বিচার নিশ্চিত করতেই আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে জনমত তৈরি করেছিল; এই আইনের মাধ্যমে তাদের (আওয়ামী লীগের) নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে।
এরপর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘সরকারি অডিট বিল ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব দেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ‘মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’ পেশ করলে সেটিও সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দুটি বিল—‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ ও ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল ২০২৬’—পেশ করেন, যা সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে পাস করেন।