![]()
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে প্রতিবছর বাংলা নববর্ষে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রার নাম ফের পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে এটি ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ বা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত ছিল, তবে এবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।
সরকার বলছে, নাম পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিনের বিভাজন দূর করা এবং আয়োজনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য করা। আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন, নাম বদলানোর ফলে মূল আয়োজনের উদ্দেশ্য বা তাৎপর্য পরিবর্তিত হয় না; বরং নতুন প্রজন্মের কাছে বিষয়টি প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা যায়।
তবে সমালোচকরা মনে করেন, একই আয়োজনের নাম বারবার পরিবর্তন করলে এর ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম শেখ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, নাম পরিবর্তন রাষ্ট্রীয় ব্যাপার, তাই সরকার চাইলে তা করতে পারে। তিনি যোগ করেছেন, শোভাযাত্রার মূল বৈশিষ্ট্য এবং কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হয়নি। চারুকলা তাদের সীমিত শক্তি অনুযায়ী আয়োজনকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “এই শোভাযাত্রা এককভাবে চারুকলার নয়। এটি একটি বৈশাখী উৎসবের অংশ, যা সমাজের সকল অংশকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে রাখা হয়েছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, জনগণ সাধারণত সরকারের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, নাম পরিবর্তনের পেছনে মূলত রাজনীতি রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় গোষ্ঠী শব্দের অর্থ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় সরকার নিরপেক্ষ নাম বেছে নিয়েছে। তিনি বলেছেন, “যেখানে রাজনীতি থাকে, সেখানে নাম বদলানো স্বাভাবিক।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনাও চলছে। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শোভাযাত্রার আগের নাম ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ পুনঃপ্রচারের দাবি জানিয়েছে। অপরদিকে, এক আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দিয়েছেন পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা বন্ধ করার জন্য।
সংক্ষেপে, নামের পরিবর্তন মূল অনুষ্ঠানের প্রভাব ফেলছে না, তবে এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।