![]()
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে ঘিরে অশালীন ভাষায় দেওয়া হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক রাজনীতিক তার বক্তব্যের সমালোচনা করে মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি দেন এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সময়সীমা বেঁধে দেন। তার এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মার্কিন রাজনীতিক কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সাবেক ঘনিষ্ঠ মিত্র মারজোরি টেলর গ্রিন ট্রাম্পকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এবং প্রশাসনের অন্যদের এ অবস্থার জন্য দায়ী করেন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয় ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধ করা বা নিরীহ মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ানো।
সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন উন্মাদের প্রলাপ’ বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, এমন ভাষা মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের ঝুঁকি তৈরি করছে।
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিনেটর ক্রিস মারফি, যিনি ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের প্রসঙ্গও তোলেন।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্না বলেন, ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেন না। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির সদস্য সিনেটর টিম কাইন ট্রাম্পকে সংযত ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন বক্তব্য মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত নতুন কাঠামোর আওতায় ট্রানজিট ফি পরিশোধ করা হলে তবেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূরাজনীতিতেও।