• হোম > দেশজুড়ে > এক মাসে পাইকারিতে ১৮ টাকা বেড়েছে পাম অয়েলের দাম

এক মাসে পাইকারিতে ১৮ টাকা বেড়েছে পাম অয়েলের দাম

  • সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮
  • ৮১

---

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে পাম অয়েলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ১৮ টাকা বেড়েছে, যা সুপার পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের দামকেও ঊর্ধ্বমুখী করে সামগ্রিক ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত পাম অয়েলের দাম তুলনামূলক কম বাড়লেও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় দেশের বাজারে ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়ছে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বর্তমানে পাম অয়েলের পাইকারি দাম মণপ্রতি ৬ হাজার ৫৫০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ছিল ৫ হাজার ৮৫০ টাকা।

সুপার পাম অয়েলের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে মণপ্রতি ৬ হাজার ৭৫০ টাকা। অন্যদিকে পরিশোধিত খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ৫০০ টাকায়। গত এক মাসে সয়াবিনের দাম মণপ্রতি প্রায় ৫০০ টাকা বেড়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় সরবরাহ আদেশ (এসও) বারবার ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে কিছু ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মওলা বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের বাজার আমদানিকারক, মিল মালিক ও বড় ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। সরকারের কার্যকর তদারকির অভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই এবং নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করা হলেও বর্তমানে সে প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে হচ্ছে না। ফলে বোতলজাত সয়াবিনের দাম নিয়ন্ত্রিত থাকলেও খোলা তেলের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে।

ভোক্তাদের পক্ষ থেকে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, বিশ্ববাজারে কিছুটা দাম বাড়লেও যুদ্ধকে অজুহাত করে দেশে প্রতিদিন খোলা তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাম অয়েলের দাম কিছুটা বাড়লেও সয়াবিন তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে মিল মালিকদের দাবি, বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি এবং শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানিনির্ভর এই পণ্যের দাম বাড়া স্বাভাবিক।

সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে ভোজ্যতেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে সার্বিক ভোগ্যপণ্যের দামে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8473 ,   Print Date & Time: Saturday, 3 October 2026, 10:56:00 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh