![]()
দেশের পাইকারি ও বিতরণ খাতে বর্তমানে টার্নওভারের ওপর ১ শতাংশ করহার কার্যকর থাকলেও, তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এ হার উল্টো বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে করপোরেট কর হ্রাস, ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারণ এবং নির্দিষ্ট খাতে শুল্ক ও করছাড়ের মতো নানা প্রস্তাবও উঠে এসেছে।
গতকাল এনবিআরের কার্যালয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব বিষয় তুলে ধরেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ছয়টি সংগঠন অংশ নেয়।
আলোচনার শুরুতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) করহার কমানোর প্রস্তাব দেয়। সংগঠনটি ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাভয়ডেন্স এগ্রিমেন্ট (ডিটিএএ) সনদ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করা, বৈদেশিক মুদ্রা রূপান্তরের মানসম্মত পদ্ধতি চালু এবং উৎসে করহার যৌক্তিক করার দাবি জানায়। অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনীতির তুলনায় রাজস্ব আদায় বাড়ছে না এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বিদেশি ও স্থানীয় ব্যাংকের জন্য সমান করহার নির্ধারণ এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে প্রণোদনামূলক কর সুবিধা চালু করলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নত হবে।
ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়ে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, বর্তমানে স্মার্ট কার্ড আমদানিতে ৭৬ শতাংশ এবং পিওএস মেশিনে ৩৮-৫৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়, যা কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনা উচিত। পাশাপাশি নগদবিহীন লেনদেনে অন্তত তিন বছরের করছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
ইউরোপিয়ান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচেম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, এনবিআরের ডিজিটালাইজেশন উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও নীতিমালা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ব্যবধান রয়ে গেছে। ডিজিটাল ও হার্ড কপি একসঙ্গে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ব্যবসার খরচ বাড়াচ্ছে এবং প্রক্রিয়াকে জটিল করছে। তিনি বিনিয়োগবান্ধব করনীতি ও ভ্যাট-শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. আমানুর রহমান বলেন, উচ্চ শুল্কের কারণে এআইওটি ও অ্যাকসেসরিজ পণ্যের বাজারে অবৈধ আমদানি বাড়ছে। এ খাতে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অন্যান্য শুল্ক ও কর অব্যাহতির প্রস্তাব দেন তিনি।
নারীদের জন্য আয়করসীমা ৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ করার দাবি জানান বাংলাদেশ উইমেনস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী। এছাড়া শতভাগ নারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন ডব্লিউইএনডি সভাপতি ড. নাদিয়া বিনতে আমিন।
পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সহজ করতে টিআরএস বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য মতিয়ার রহমান।