![]()
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন ১ ঘণ্টা কম সময় অফিস চলবে।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আজ থেকে অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা গত শুক্রবার থেকেই কার্যকর রয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত গত বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া হয়।
এদিকে, তফসিলি ব্যাংকগুলোর লেনদেনের সময়ও ১ ঘণ্টা কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যাংক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত, যা আগে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নির্দেশ জারি করেছে। এতে বলা হয়, নতুন অফিস সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সময়সূচি বহাল থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে শুক্র ও শনিবার অপরিবর্তিত থাকবে।
বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানার কর্মঘণ্টা নির্ধারণে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
তবে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথগুলো ২০১৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ির জ্বালানির মাসিক বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কম নেবেন। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ স্থগিত এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।