![]()
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, বিক্ষোভ ও দেশত্যাগের প্রবণতা বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু যুদ্ধ-সংঘাতে জড়ালেও নিজেদের ভেতরে বড় ধরনের ভাঙন খুব একটা দেখা যায়নি Israel-এ। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
বিশেষ করে ২০২৩ সালে Hamas-এর হামলার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান এবং পরবর্তীতে Iran-এর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে যৌথ হামলা ঘিরে ইসরাইলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। রাজধানী Tel Aviv-এ যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে শত শত মানুষ ‘যুদ্ধ বন্ধ’ এবং প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর পদত্যাগ দাবি জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘বোমা নয়, আলোচনা চাই’ এবং ‘অন্তহীন যুদ্ধ বন্ধ করো’।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের কারণে ইসরাইলিদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা, বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়া, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। যুদ্ধ পরিচালনায় প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে, বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।
এই পরিস্থিতিতে দেশত্যাগের প্রবণতাও বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। নিরাপত্তাহীনতা ও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে অনেকেই বিকল্প দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিরোধমূলক হামলা অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ইসরাইলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ভিন্ন তথ্যও দিচ্ছে। তাদের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর বিদেশে থাকা অনেক নাগরিক আবার দেশে ফিরে এসেছে।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা