• হোম > অর্থনীতি > ঈদের বন্ধ ও ইরান যুদ্ধে ব্যাহত শিপমেন্ট: মার্চে রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ শতাংশ

ঈদের বন্ধ ও ইরান যুদ্ধে ব্যাহত শিপমেন্ট: মার্চে রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ শতাংশ

  • শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩৯
  • ৬৪

---

জাতীয় নির্বাচনের পর রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারার আশা থাকলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্চ মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি বড় ধাক্কা খেল।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মার্চে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ১৮.০৭ শতাংশ কমে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে এই রপ্তানি ছিল ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার। এই কমতি টানা আট মাস ধরে রপ্তানি কমার ধারার মধ্যে সর্বোচ্চ।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, মূলত দুইটি কারণে এই পতন হয়েছে। প্রথমে ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যাপী ক্রয়াদেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।

তৈরি পোশাক খাত দেশের রপ্তানির প্রধান খাত। মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। কিন্তু মার্চে এই খাতের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানিয়েছেন, মার্চে কারখানাগুলোতে ৭ থেকে ১০ দিনের ছুটি ছিল, যা উৎপাদন ও রপ্তানিকে প্রভাবিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অর্ডার দিতে এখন সতর্ক হয়ে গেছে। নির্বাচনের পর রপ্তানিতে গতি আসার আশা ছিল, কিন্তু যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে।’

শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেতিবাচক এই ধারা বাংলাদেশের পোশাক খাতে নজিরবিহীন। ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ ক্রেতাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্রয়াদেশ কমেছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম টিবিএসকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা কমছে এবং স্থানীয় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে, যা রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’ তিনি সরকারকে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএফএলএলএফইএ সভাপতি টিপু সুলতান জানিয়েছেন, মার্চ থেকে পরবর্তী শীত মৌসুমের ক্রয়াদেশ আসা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধিসহ অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতারা ধীরগতিতে অর্ডার দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ যদি দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষও হয়, তবুও অনিশ্চয়তা থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে জ্বালানির দাম আগামী এক বছরে কম হওয়ার সম্ভাবনা কম।’

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে চলতি অর্থবছরের বাকি তিন মাসে রপ্তানি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

তথ্য অনুযায়ী, মার্চে তৈরি পোশাক ছাড়া অন্যান্য প্রধান পণ্যের রপ্তানিও কমেছে। এ তালিকায় আছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও প্রকৌশল পণ্য। তবে প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে।

জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫.৩৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কম।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8384 ,   Print Date & Time: Sunday, 23 August 2026, 11:58:35 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh