• হোম > বিদেশ > ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পাকিস্তানে পেট্রোলের ৪৩% ও ডিজেলের ৫৫% দাম বাড়ল

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পাকিস্তানে পেট্রোলের ৪৩% ও ডিজেলের ৫৫% দাম বাড়ল

  • শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:২৭
  • ৮৯

---

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য গভীর সংঘাতে নিমজ্জিত হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

এই যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য ক্রমবর্ধমান হওয়ায়, পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানির নতুন দাম ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পেট্রোলের দাম ৪২.৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৫৪.৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আলী পারভেজ মালিক বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেট্রোলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৪৫৮.৪০ রুপি (প্রায় ১.৬৪ ডলার), যা শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২০.৩৫ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১.৮৬ ডলার), যা শ্রমজীবী মানুষ ও গণপরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

মন্ত্রী জানান, “সরকার বাজেট সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়েও জনগণকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু যেহেতু সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তাই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে।”

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যুদ্ধ শুরুর পর গত ৬ মার্চ তাদের জ্বালানির দাম ইতোমধ্যেই ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য পাকিস্তান সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি দপ্তরে চারদিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা, স্কুলের ছুটি বৃদ্ধি এবং অনলাইনে ক্লাস নেওয়া।

ইরানের যুদ্ধ প্রভাব মোকাবিলায় এশিয়ার কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বা অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে চলতি সপ্তাহে রান্নার এলপিজি ও গাড়িতে ব্যবহৃত সিএনজির দাম ২৯ শতাংশ বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে, পাকিস্তানসহ ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির দেশগুলো শুধু জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে নয়, সরবরাহ জটিলতার কারণে চাপে রয়েছে। আইএমএফ জানিয়েছে, “মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক এবং লাতিন আমেরিকার কিছু অঞ্চলে উচ্চ খাদ্য ও সারমূল্য এবং কঠোর আর্থিক পরিস্থিতির কারণে অতিরিক্ত চাপ দেখা দিচ্ছে।”


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8378 ,   Print Date & Time: Monday, 24 August 2026, 12:46:11 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh