![]()
বিরোধী দলের কর্মসূচিকে ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বিএনপি। দলটি বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে এবং তা গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করছেন, সংসদ ও রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই বিরোধী দলের সক্রিয় উপস্থিতি ও কর্মসূচি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য স্বাভাবিক। তাই এসব কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসেরও কম সময়ে বিরোধী দলগুলো এই কর্মসূচি দিয়েছে। আজ (৪ এপ্রিল) জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি তুলবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “বিরোধী দলগুলো সংসদ ও রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয়। তারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, এবং বিএনপি এর বিরুদ্ধে কোনো সমস্যা দেখছে না।”
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি আদায়ে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতির অপরিহার্য অংশ এটি। জামায়াতের কর্মসূচির বিরুদ্ধে বিএনপি কোনো কর্মসূচি দেবে না, কারণ তা হলে আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ হবে।”
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ জানান, শনিবার বিকেল ৫টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, দাবিগুলো পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
জোট সূত্র বলছে, তারা সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে ধাপে ধাপে কর্মসূচি এগোতে চায়। তারা রাজপথ ও সংসদ—উভয় ক্ষেত্রেই জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে সক্রিয় থাকতে চায়। ৭ এপ্রিল জোটের বৈঠকে আরও কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে।
হামিদুর রহমান আজাদ অভিযোগ করেন, “সরকার গণভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করেছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার প্রয়োজন। গণভোট মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার মাধ্যমে তা সম্ভব।”
এদিকে, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বিএনপি সরকারের নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কাজের মিল না থাকলে আমাদের প্রতিবাদ করা জরুরি। রাজপথের কর্মসূচি জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার প্রতিফলনও।”
সংসদীয় বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে গণভোটের অধ্যাদেশও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গণভোট প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংকটও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।