![]()
সেচ মৌসুমে প্রয়োজনমতো ডিজেল না পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াসহ একাধিক জেলায় কৃষকেরা অভিযোগ করছেন, বাজারে ডিজেলের সরবরাহ কম, আবার যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে সেটিও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।
রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের কৃষক মো. আজগর জানান, তিন একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করলেও গত এক সপ্তাহে প্রয়োজনীয় ডিজেল পাননি। ১০ লিটার চাইলেও পেয়েছেন মাত্র ৪ লিটার, তাও বেশি দামে। একইভাবে পাশের সরফভাটা ইউনিয়নের কৃষক মো. আলমগীর বলেন, ধানের শিষ বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ দিতে না পারলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, জামালপুর, পটুয়াখালী, রাজশাহী, গাজীপুর, বরগুনা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকেরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। অনেকেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডিজেলনির্ভর সেচযন্ত্র, ট্রাক্টর, হারভেস্টার ও অন্যান্য কৃষিযন্ত্রের জন্য জ্বালানি না পাওয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সামনে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে সময়মতো ফসল কাটতে না পারলে আগাম বন্যায় বড় ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব, মজুতদারি এবং বাজারে অনিয়মকে দায়ী করা হচ্ছে। এতে করে ফিলিং স্টেশনগুলোতেও ভিড় বাড়ছে এবং সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানিসংকটের প্রভাব থেকে কৃষিকে রক্ষা করা জরুরি, কারণ এটি সরাসরি দেশের খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এজন্য কৃষিখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল্প উৎস ও প্রয়োজনীয় ভর্তুকির ব্যবস্থাও নেওয়া দরকার।