• হোম > বিদেশ > মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ৩৪তম দিন: সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে পুরো অঞ্চলে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ৩৪তম দিন: সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে পুরো অঞ্চলে

  • শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৯
  • ৭০

---

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের আজ ৩৪তম দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করায় পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।

সংঘাতের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। এরপর থেকেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

ইরান দাবি করেছে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক ফোনালাপে দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

অন্যদিকে, অস্ট্রিয়া তাদের আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের নিরপেক্ষতা নীতি বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে।

পাকিস্তানও এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও তারা আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাবে।

যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-তেও। এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে’ দেওয়ার হুমকি দিয়ে আরও তীব্র সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পরপরই ইরান পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি কূটনৈতিক পথের ওপর জোর দেন।

সংঘাতের ফলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শতবর্ষী গবেষণা প্রতিষ্ঠান Pasteur Institute of Iran-এ হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি দেশের বড় দুটি ইস্পাত কারখানাও অচল হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8338 ,   Print Date & Time: Tuesday, 25 August 2026, 05:57:10 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh