![]()
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হঠাৎ করেই সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ-কে অবসরে পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে আরও দুই জ্যেষ্ঠ জেনারেলকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনীর প্রধান চ্যাপলেইন মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র এবং ট্রেনিং ও ট্রান্সফরমেশন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড হোডনিকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি আসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের একদিন পর, যেখানে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের ইঙ্গিত দেন।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনারেল র্যান্ডি জর্জের অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং তার দীর্ঘ সামরিক সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা পুরোপুরি অপ্রস্তুত ছিলেন। অনেকেই জনসমক্ষে ঘোষণার পরই বিষয়টি জানতে পারেন।
জানা গেছে, জেনারেল র্যান্ডি জর্জ একটি বৈঠকে থাকা অবস্থায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন পান এবং পরে নিজেই তার সহকর্মীদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় এমন একটি সিদ্ধান্ত সামরিক কৌশল ও নেতৃত্বে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, জর্জের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীই বর্তমানে সেনা মোতায়েন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে, নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জেনারেল ক্রিস লা-নিভ অস্থায়ীভাবে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে পারেন। তিনি বর্তমানে ভাইস চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন অষ্টম সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব থাকতে পারে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতিতে নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে।