![]()
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া প্রাইমটাইম ভাষণে ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা দেননি। বরং গত কয়েকদিন ধরে তিনি যা বলে আসছিলেন, সেই অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রায় ২০ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, এক মাসের সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে তাদের ‘মূল কৌশলগত লক্ষ্যগুলো প্রায় পূরণ’ করতে পেরেছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই অভিযান আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলতে পারে।
ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে আগের মতোই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি আবারও হুঁশিয়ারি দেন, প্রয়োজনে ইরানকে ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে এই কঠোর ভাষার পাশাপাশি যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দেননি তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প তার বক্তব্যে যুদ্ধকে ‘ভবিষ্যতের বিনিয়োগ’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ভোটারদের একটি বড় অংশ এই সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করছে।
এদিকে যুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর ভাষণে অনুল্লিখিতই থেকে গেছে। যেমন—ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমার সঙ্গে একমত কি না, তা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন অবস্থানেও অসঙ্গতি দেখা গেছে। কখনও ট্রাম্প ইরানকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দিতে বলছেন, আবার কখনও মিত্র দেশগুলোকে নিজ উদ্যোগে এর নিয়ন্ত্রণ নিতে আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে যুদ্ধ শেষে এটি ‘স্বাভাবিকভাবে’ খুলে যাবে বলে মন্তব্য করলেও এর কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
হোয়াইট হাউসের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়েও ভাষণে কোনো উল্লেখ ছিল না, যা কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রশ্নে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হওয়া মার্কিন স্থলবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও কোনো পরিষ্কার ধারণা দেননি ট্রাম্প। ফলে যুদ্ধের পরিণতি, সময়কাল এবং ‘জয়’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে—এসব প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও এর সুস্পষ্ট কৌশল বা সমাপ্তির রূপরেখা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।