• হোম > বাংলাদেশ > বিএসসির জাহাজ ক্রয়ে অনিয়ম: বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ মিলিয়ন ডলার বেশি!

বিএসসির জাহাজ ক্রয়ে অনিয়ম: বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ মিলিয়ন ডলার বেশি!

  • শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩১
  • ৮১

---

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিজস্ব অর্থায়নে দুইটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কিনেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। তবে এই ক্রয় প্রক্রিয়া ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, অতিমূল্যায়ন ও টেন্ডার কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।

সরকার ৭৬.৬৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে চীন থেকে ‘এক্সএলসি লায়ন’ ও ‘জেমিনি’ নামের দুইটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহ করে, যা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি-এর মাধ্যমে কেনা হয়। প্রতিটি জাহাজের ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৮.৩৪ মিলিয়ন ডলার।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, একই ধরনের ৬৩ হাজার টন ক্ষমতার একটি আল্ট্রাম্যাক্স বাল্ক ক্যারিয়ারের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৩২ থেকে ৩৩ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। সে হিসেবে দুইটি জাহাজ কিনতে সর্বোচ্চ ৬৬ মিলিয়ন ডলার লাগার কথা, যেখানে বাস্তবে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ মিলিয়ন ডলার। এতে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, জাহাজ দুইটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে নয়, বরং চীনে নির্মিত এবং পরে রিসেইল করা হয়েছে। অথচ ক্রয় প্রক্রিয়ায় এগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী এজে রহমানের মালিকানাধীন একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও অফিস সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এমনকি সংশ্লিষ্টদের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এমন শর্ত আরোপ করা হয়েছিল, যাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করতে না পারে।

বিএসসি’র নথিতে জাহাজে ইউরোপীয় ও জাপানি উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কথা উল্লেখ থাকলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জাহাজগুলো মূলত চীনা প্রযুক্তিতে নির্মিত এবং সাধারণ সিঙ্গেল ফুয়েল ডিজেল ইঞ্জিনচালিত।

জাহাজ ক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকা ক্যাপ্টেন জামাল হোসেনের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ক্যাপ্টেন জামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অনিচ্ছুক। তবে তিনি দাবি করেন, জাহাজ দুটি বর্তমানে ভালো অবস্থায় চলছে এবং লাভজনক।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের বড় ক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8322 ,   Print Date & Time: Wednesday, 26 August 2026, 03:45:31 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh