![]()
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দেওয়া মৃত্যুদণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
শেখ হাসিনার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক ল’ ফার্ম কিংসলে ন্যাপলি সোমবার (৩০ মার্চ) ই-মেইলের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার করে তাকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তার ন্যায্য বিচার ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত করেছে।
আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, বিচারটি রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ ও সমর্থকদের ওপর দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব, রাজনৈতিক সংযুক্তি থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে বেঞ্চ গঠন এবং একটি বিচারকের আগেভাগেই দোষী সাব্যস্ত করার ইঙ্গিত দেওয়ার বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন।
চিঠিতে প্রধান প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং প্রসিকিউশন টিমে দুর্নীতির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনাকে অভিযোগ, প্রমাণ উপস্থাপন বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।
ল’ ফার্মটি আরও উল্লেখ করেছে, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারও প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ এটি মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধ বিচার করার জন্য গঠিত হলেও পরে ক্ষমতা সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যা বেআইনি।
শেষে তারা দাবি করেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বাতিল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পুনর্বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর জুলাই আন্দোলন দমনে এক হাজার ৪০০ জনকে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল।