![]()
ইরান যুদ্ধ ঘিরে ইসলামাবাদে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠককে শুধু যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ হিসেবেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
গত রোববার (২৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মিশর, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক অংশ নেয়। কূটনীতিকদের মতে, এটি একটি আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে ইরান-ইসরায়েল প্রভাব কমিয়ে আঞ্চলিক ভারসাম্য তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য হলো চলমান উত্তেজনা কমানো এবং যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করা। তারা নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সংকট সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠকে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতিও দেখা গেছে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুটি পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে ইরানের সম্মতি একটি আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি, এই গোষ্ঠী ইরানের সঙ্গে প্রধান আলোচক হিসেবে কাজ করবে, যা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকের পরপরই চীন সফরে গেছেন এবং সংকট পরিস্থিতি নিয়ে বেইজিংকে অবহিত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে চীনকে গ্যারান্টর হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জোটের গঠন কিছুটা অপ্রত্যাশিত হলেও এতে বোঝা যায় যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেদের কৌশলগত বিকল্প খোলা রাখতে চায়। বিশেষ করে সৌদি আরব একদিকে কঠোর অবস্থান রাখলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক পথও সক্রিয় রাখছে।
তুরস্ককে এই জোটের সবচেয়ে সক্রিয় সদস্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা কেবল দ্বিপাক্ষিক না হয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিসরে হওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু সামরিক সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা, এমনকি জাতিগত সংঘাতের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান খোঁজাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।