• হোম > Following > বিশ্ববাজারে প্রতিদিন জ্বালানি তেলের ঘাটতি প্রায় সোয়া কোটি ব্যারেল

বিশ্ববাজারে প্রতিদিন জ্বালানি তেলের ঘাটতি প্রায় সোয়া কোটি ব্যারেল

  • মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৮:০৭
  • ৯৩

---

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে তখনই, যদি ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও রফতানি টার্মিনালে বড় ধরনের হামলা চালায়।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার এক মাস পেরিয়ে গেলেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমেনি, বরং বেড়েছে। অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য এবং এলএনজির সরবরাহ এখন চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শুধু মজুদ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।

এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়। কিন্তু চলমান সংঘাতের কারণে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, ফলে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করেছে, বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। ট্যাংকার চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বিশ্ব অর্থনীতি কার্যত চাপের মুখে রয়েছে।

এ সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে এশিয়ায়, যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। ফলে পরিশোধিত জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে ব্যাপকভাবে। সিঙ্গাপুরে জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণ হয়ে ২২৩ ডলারে পৌঁছেছে, গ্যাসঅয়েল ও পেট্রলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহে তৎপর হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পথে রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত।

এছাড়া লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এ পথ বন্ধ করে দিলে জ্বালানি পরিবহন আরও জটিল হয়ে পড়বে এবং খরচ বেড়ে যাবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলারের বেশি হয়েছে, যা সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8215 ,   Print Date & Time: Wednesday, 7 October 2026, 06:38:21 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh