• হোম > বাংলাদেশ > জ্বালানি সংকটে আতঙ্ক নয়, আস্থার বার্তা—দেশের ৯ জেলায় ১৯ ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন

জ্বালানি সংকটে আতঙ্ক নয়, আস্থার বার্তা—দেশের ৯ জেলায় ১৯ ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন

  • শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪:৪৫
  • ৭১

---

বিশ্বজুড়ে অস্থির সময়। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, তখন তার প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা, সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে এক ধরনের অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়েছে মানুষের মনে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে—দেশের ৯টি জেলার ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—সংকটের এই সময়ে যেন কেউ অবৈধভাবে তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, আর সাধারণ মানুষ যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি পায়।

শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আওতায় ঢাকা, কুড়িগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সুনামগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ডিপোগুলোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এই উদ্যোগ কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়—এটি মানুষের ভরসা ফিরিয়ে আনার একটি প্রয়াস। কারণ, অতীতে দেখা গেছে সংকটের সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুদদারি করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি।

বিজিবি সদস্যরা শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন না, তারা নিয়মিত তদারকি, তথ্য সংগ্রহ এবং ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। দূরবর্তী এলাকাগুলোতে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে তারা দায়িত্ব পালন করছেন—যা তাদের কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতি ও প্রস্তুতিরই প্রতিফলন।

একজন দিনমজুরের কাছে জ্বালানি মানে শুধু তেল নয়—তার রিকশা চালানোর শক্তি, তার পরিবারের খাবার জোগাড়ের উপায়। একজন কৃষকের কাছে এটি সেচের প্রাণ। তাই জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা মানে দেশের অর্থনীতির শিরা-উপশিরায় প্রাণসঞ্চার বজায় রাখা।

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি পাচার ঠেকাতে বিজিবি অতিরিক্ত টহল, নৌ টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করেছে। এতে করে অবৈধ কার্যক্রম রোধের পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের ফলে শুধু বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে না, মানুষের মনেও তৈরি হবে আস্থা—সংকট যতই গভীর হোক, রাষ্ট্র তাদের পাশে আছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8159 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 12:26:22 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh