• হোম > বিদেশ > এক মাসের যুদ্ধে ইরানের এক-তৃতীয়াংশ মিসাইল ধ্বংস—যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন

এক মাসের যুদ্ধে ইরানের এক-তৃতীয়াংশ মিসাইল ধ্বংস—যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন

  • শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:১০
  • ১১১

---

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ধোঁয়া ঘন হয়ে উঠেছে প্রায় এক মাস ধরে। Iran, United States এবং Israel–এর মধ্যে চলমান সংঘাত শুধু সামরিক শক্তির লড়াই নয়; এটি এখন মানুষের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা—ইরানের বিশাল মিসাইল ভাণ্ডারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অর্থাৎ, যুদ্ধের এতদিন পরেও দেশটির কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র রয়ে গেছে, যা সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করার সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও বলছে, আরেক-তৃতীয়াংশ মিসাইলের অবস্থা এখনো অনিশ্চিত। ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলোর কিছু ধ্বংস হয়েছে, কিছু ক্ষতিগ্রস্ত, আবার কিছু হয়তো ভূগর্ভস্থ টানেল বা বাঙ্কারের নিচে চাপা পড়ে আছে। এই অনিশ্চয়তা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা—কারণ অদৃশ্য হুমকি সবসময়ই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

এই চিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের হাতে খুবই সামান্য রকেট অবশিষ্ট আছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটা সরল নয়।

ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবশিষ্ট সামান্য মিসাইলও বিশাল ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি রুট Strait of Hormuz–এ সামান্য একটি হামলাই শত কোটি ডলারের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে পারে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর United States Central Command (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ইরানের ৬৫ শতাংশের বেশি মিসাইল, ড্রোন ও নৌ উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশাপাশি ১০ হাজারেরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তবুও তারা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না, ঠিক কতটা সক্ষমতা এখনো টিকে আছে।

এই অনিশ্চয়তার একটি বড় কারণ হলো ইরানের ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক। বিশাল এই টানেল ও বাঙ্কারগুলোতে ঠিক কত অস্ত্র মজুত আছে, তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। এমনকি মার্কিন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন—এই সংখ্যা হয়তো কখনোই পুরোপুরি জানা সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে, যুদ্ধের মধ্যেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার উপস্থিতি দেখিয়ে যাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে একদিনেই একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনা প্রমাণ করে, তাদের অস্ত্রভাণ্ডার এখনো কার্যকর। এমনকি ভারত মহাসাগরে দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমেও তারা নতুন সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এর মানবিক প্রভাব। প্রতিটি মিসাইল, প্রতিটি ড্রোন হামলার পেছনে রয়েছে সম্ভাব্য প্রাণহানি, ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো এবং আতঙ্কে বসবাস করা সাধারণ মানুষ। যুদ্ধের হিসাব কেবল কতটি অস্ত্র ধ্বংস হয়েছে তা দিয়ে হয় না—হয় মানুষের ক্ষতি, ভাঙা স্বপ্ন এবং অস্থির ভবিষ্যতের মাধ্যমে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই বাড়বে এই অনিশ্চয়তা। কারণ অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ সক্ষমতা ধ্বংস করা তুলনামূলকভাবে বেশি কঠিন। আর এই অংশটুকুই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আজকের এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই সংঘাতের শেষ কোথায়? সামরিক শক্তির প্রদর্শন হয়তো সাময়িক সাফল্য এনে দিতে পারে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কেবল কূটনৈতিক পথেই সম্ভব।

যুদ্ধের ময়দানে জয়-পরাজয়ের হিসাব চলতে পারে, কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি যুদ্ধই এক ধরনের পরাজয়। কারণ সেখানে হারায় মানুষ, হারায় স্বপ্ন, আর হারিয়ে যায় শান্তির সম্ভাবনা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8152 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 01:23:32 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh