• হোম > বাংলাদেশ > মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস খাটো করা যাবে না: তারেক রহমান

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস খাটো করা যাবে না: তারেক রহমান

  • শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ২০:৪০
  • ৯৪

---

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ইতিহাস, রাজনীতি এবং মানবিক মূল্যবোধের এক গভীর বার্তা তুলে ধরলেন তারেক রহমান। রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বলেন, আলোচনা-সমালোচনা বা গবেষণার নামে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে খাটো করে।

তার বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ইতিহাসের প্রতি দায়িত্ববোধ। তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশের জন্ম কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি লাখো প্রাণের আত্মত্যাগে অর্জিত এক মহৎ ইতিহাস। সেই ইতিহাস নিয়ে গবেষণা, আলোচনা বা বিতর্ক অবশ্যই হবে—এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে সেই আলোচনায় যেন সত্য, সম্মান এবং দায়িত্বশীলতা বজায় থাকে—এটাই তাঁর মূল বার্তা।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁর মতে, এই মানুষগুলোর আত্মত্যাগই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি।

ইতিহাসকে ঘিরে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হলো—অতীতকে পুরোপুরি ভুলে যাওয়া যেমন ভুল, তেমনি অতীতে আটকে থাকাও ক্ষতিকর। তিনি বলেন, অতিরিক্ত অতীতচর্চা অনেক সময় ভবিষ্যতের পথকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান হঠাৎ করেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি; বরং দীর্ঘদিন ধরে তিনি একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন লালন করছিলেন। তাঁর লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এই প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটের উল্লেখ করে শহীদ জিয়া যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা ইতিহাস গবেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর যুক্তি—যুদ্ধ শেষে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকাশিত এই লেখাটি তখনকার বাস্তবতার প্রতিফলন, এবং এটি নিয়ে কোনো আপত্তি না ওঠা তার গ্রহণযোগ্যতাকেই নির্দেশ করে।

মুক্তিযুদ্ধকে কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়, বরং একটি ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করতে পারে তারাই, যারা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে বা এখনো করছে। এই প্রসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনের মানুষের উদাহরণ তুলে ধরেন, যারা এখনও স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের যে স্বপ্ন ছিল, তা হলো—সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এই স্বপ্নই আজও জাতিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।

বর্তমান বাস্তবতা নিয়েও তিনি খোলামেলা কথা বলেন। দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে তিনি বলেন, আকাঙ্ক্ষা যত বড়ই হোক, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব—এই বিশ্বাস তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই উদ্যোগগুলো শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার একটি পথ।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি যে আহ্বান জানান, সেটিই পুরো বক্তব্যের সারাংশ—“সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকব।” এই বার্তা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি বহন করে, যেখানে বিভাজনের পরিবর্তে সহাবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক ভাষণ নয়; এটি একটি মানবিক আহ্বান—ইতিহাসকে সম্মান জানিয়ে, বর্তমানকে বুঝে এবং ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান। এমন এক সময়ে, যখন সমাজ নানা মতভেদ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন এই ধরনের বার্তা জাতির জন্য নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/8150 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 02:21:20 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh