• হোম > বিদেশ > ‘যুদ্ধের প্রভাবেই তেলের দাম বেড়েছে’—মার্কিন সিনেটর

‘যুদ্ধের প্রভাবেই তেলের দাম বেড়েছে’—মার্কিন সিনেটর

  • মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৩০
  • ৭৫

---

বিশ্ব রাজনীতির উত্তেজনা যখন জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন তার অভিঘাত সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন সাধারণ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দামে হঠাৎ উল্লম্ফন সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সরাসরি এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (Twitter)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, মাত্র এক মাস আগে যেখানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় মূল্য ছিল ২ দশমিক ৯৩ ডলার, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে—যা প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির সমান।

এই পরিসংখ্যান শুধু একটি অর্থনৈতিক সূচক নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে সংগ্রামরত মানুষের জন্য একটি বড় চাপের প্রতীক। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে—যার প্রভাব পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর সবচেয়ে বেশি।

চাক শুমার শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে আসছেন। তার মতে, এই যুদ্ধ শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দামে। ফলে একটি আঞ্চলিক সংঘাত খুব দ্রুতই বৈশ্বিক অর্থনীতির সংকটে রূপ নিতে পারে।

শুমারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো যুদ্ধ ব্যয়। তার মতে, এই সামরিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা বা শিক্ষা খাতে ব্যবহার করা যেত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং নীতিগত বিতর্কেও পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণত এমন অবস্থানে বলা হয়—জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। ফলে এখানে একটি দ্বৈত বাস্তবতা তৈরি হয়—একদিকে নিরাপত্তার যুক্তি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ ও মানবিক উদ্বেগ।

এই পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বৈশ্বিক রাজনীতি কখনোই দূরের কোনো বিষয় নয়। এর প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি সংঘাত শেষ পর্যন্ত এসে ঠেকে সাধারণ মানুষের জীবনে—জ্বালানির দাম, বাজারের খরচ, জীবনযাত্রার মান—সবকিছুর মধ্যেই তার প্রতিফলন ঘটে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যায়—যুদ্ধ কি সত্যিই সমাধান এনে দেয়, নাকি নতুন সংকটের জন্ম দেয়?


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/7981 ,   Print Date & Time: Sunday, 23 August 2026, 11:58:38 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh