দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নতুন প্রজন্মের শক্তি যাচাইয়ের মঞ্চ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই মঞ্চেই আজ নিজেদের শিরোপা রক্ষার অভিযান শুরু করছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল—যারা এই পর্যায়ের টুর্নামেন্টে এখনো নবাগত হিসেবেই বিবেচিত।
মালদ্বীপের মালে ন্যাশনাল স্টেডিয়াম-এ বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৫টায় শুরু হবে ম্যাচটি। কাগজে-কলমে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও, ফুটবলে অতীত পরিসংখ্যান সবসময় ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না—এটা ভালো করেই জানেন কোচ ও খেলোয়াড়রা।
বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক সাফ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ২০১৫ সালে প্রথম অংশ নিয়েই সেমিফাইনালে ওঠা, এরপর ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে এই দলটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষ করে ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রত্যাশার চাপও বেড়েছে বহুগুণ।
অন্যদিকে পাকিস্তান এখনো এই পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার লড়াইয়ে। তাদের অংশগ্রহণ কম, অভিজ্ঞতাও তুলনামূলক সীমিত। তবে এই ‘আন্ডারডগ’ পরিচয়ই অনেক সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে—কারণ হারানোর কিছু না থাকলে খেলোয়াড়রা বাড়তি ঝুঁকি নিতে সাহস পায়।
এই টুর্নামেন্টে সাতটি দলের অংশগ্রহণে লড়াই হচ্ছে দুটি গ্রুপে। সেখান থেকে সেরা চার দল যাবে সেমিফাইনালে। ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। ফলে প্রতিটি ম্যাচই এখানে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচ।
বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসবে দ্বিতীয় ম্যাচে, যেখানে প্রতিপক্ষ ভারত অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। সাফের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় ভারতের আধিপত্য সুস্পষ্ট—সাতবার অংশ নিয়ে চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া তার প্রমাণ। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় শুধু তিন পয়েন্টই দেবে না, বরং ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে।
দলের ভেতরে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই। ফরোয়ার্ড মোরশেদ আলীর কণ্ঠে শোনা যায় সেই দৃঢ়তা—প্রথম ম্যাচ থেকেই জয় দিয়ে শুরু করতে চায় দল। কারণ তারা জানে, এই ম্যাচটাই হতে পারে সেমিফাইনালের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এবারের দলে রয়েছে কিছু নতুন আকর্ষণও। প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি দলকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী যমজ রোনান ও ডেকলান সুলিভান, এবং ইংল্যান্ডপ্রবাসী ইব্রাহিম নেওয়াজ—তাদের পারফরম্যান্সের দিকে বিশেষ নজর থাকবে সমর্থকদের।
সব মিলিয়ে, এই ম্যাচটি শুধু একটি খেলা নয়—এটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, সম্ভাবনা এবং দেশের জন্য কিছু করার এক অদম্য ইচ্ছার প্রতিফলন। মাঠের প্রতিটি পাস, প্রতিটি গোলচেষ্টা যেন বহন করবে একটি বড় লক্ষ্য—শিরোপা ধরে রাখা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও দৃঢ় করা।