![]()
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই এক বিশেষ অনুভূতির নাম। বছরের অন্য সময়গুলো যতই ব্যস্ততায় কাটুক না কেন, ঈদের এই ছুটিতে মানুষ ফিরে যেতে চায় আপন ঠিকানায়—কখনো নাড়ির টানে, কখনো বা নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে। এই চিরচেনা চিত্রের বাইরে নন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। তারাও মানুষ, তাদেরও আছে পরিবার, স্মৃতি, টানাপোড়েন আর ভালোবাসার নিজস্ব গল্প।
এবারের ঈদে সেই গল্পগুলো ছড়িয়ে আছে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে। কেউ উড়াল দিয়েছেন সুদূর আমেরিকায়, কেউ আবার শহরের ব্যস্ততার মাঝেই খুঁজে নিয়েছেন শান্তির ঠিকানা।
জনপ্রিয় অভিনেতা মিশা সওদাগর-এর ঈদ মানেই পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়া। তার পরিবার বসবাস করে যুক্তরাষ্ট্রে, আর কাজের সূত্রে তিনি থাকেন দেশে। তাই সুযোগ পেলেই ছুটে যান প্রিয়জনদের কাছে। এবারের ঈদেও তিনি ব্যতিক্রম নন। তার কাছে ঈদের আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে পরিবারকে ঘিরে—একসঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যে।
অন্যদিকে, বরেণ্য অভিনেতা জাহিদ হাসান এবার ঈদ কাটাচ্ছেন ঢাকাতেই। যদিও অনেক সময় তিনি নিজ জেলা সিরাজগঞ্জে ফিরে যান, তবে এবারের ঈদে শহরেই থেকে গেছেন। শহরের মধ্যেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন উৎসবের আনন্দ।
পুরান ঢাকার স্মৃতির সঙ্গে ঈদের সম্পর্ক যেন অটুট আবদুন নূর সজল-এর কাছে। তার শৈশব, তার দাদাবাড়ি—সব মিলিয়ে ঈদ মানেই তার কাছে ঢাকার পুরোনো সেই আবহ। এবারও তিনি পরিবারকে ঘিরেই কাটাচ্ছেন এই বিশেষ সময়।
এক সময়ের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতা ঢাকায় থাকলেও তার মন পড়ে আছে দূর দেশে—কানাডায়, তার একমাত্র সন্তানের কাছে। ঈদের আনন্দের মাঝেও এই দূরত্ব তাকে নাড়া দেয়, মনে করিয়ে দেয় ভালোবাসার গভীরতা কতটা বিস্তৃত হতে পারে।
গুণী অভিনেতা তারিক আনাম খান এবারের ঈদে নিজেকে একটু ভিন্নভাবে সময় দিয়েছেন। ব্যস্ততার ফাঁকে পরিকল্পনা করে চলে গেছেন ব্যাংককে। তার এই ভ্রমণ যেন শুধু বিশ্রাম নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারেরও এক সুযোগ।
চলচ্চিত্রের আরেক পরিচিত মুখ রোজিনা এবার দেশের মাটিতেই ঈদ উদযাপন করছেন। তার কাছে ঈদ মানেই আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া—ভক্তদের প্রতি ভালোবাসা জানানো।
এদিকে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন-এর জন্য এবারের ঈদ যেন দ্বিগুণ আনন্দের। কারণ তার নতুন সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তি পেয়েছে এই উৎসবেই। তাই ঈদের দিনগুলো তার কাটছে দর্শকদের সঙ্গে, সিনেমা হলের উচ্ছ্বাসে।
একইভাবে অভিনেতা সিয়াম আহমেদ-এর ঈদও ব্যস্ততায় ভরা। তার অভিনীত ‘রাক্ষস’ সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, তাই দর্শকদের প্রতিক্রিয়া জানতেই তিনি ছুটে বেড়াবেন বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। এই ব্যস্ততার মাঝেও আছে উৎসবের আনন্দ।
অভিনেত্রী কেয়া পায়েল সাধারণত ভ্রমণপ্রিয় হলেও এবারের ঈদে তিনি বেছে নিয়েছেন পরিবারকে। তার কাছে এই সময়টা একান্তই আপনজনদের জন্য।
দর্শকনন্দিত অভিনেতা আজিজুল হাকিম-এর কথায়, ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়। তাই তিনিও রয়েছেন ঢাকায়, পরিবারের সঙ্গে।
অন্যদিকে অভিনেতা ও নাট্যপরিচালক সালাহউদ্দিন লাভলু-এর মন টানছে তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার দিকে। সুযোগ পেলে সেখানেই ছুটে যাবেন আপনজনদের কাছে।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, তারকাদের ঈদ উদযাপনের ধরন ভিন্ন হলেও মূল অনুভূতি এক—ভালোবাসা, টান আর সম্পর্কের উষ্ণতা। কেউ দূরে গিয়ে সেই অনুভূতিকে খুঁজে পান, কেউ আবার কাছেই থেকে তাকে আঁকড়ে ধরেন।
শেষ পর্যন্ত, ঈদের আনন্দ আসলে কোথায়—গন্তব্যে নয়, বরং মানুষে মানুষে সংযোগে। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে ওঠে ঈদের আসল উৎসব।