• হোম > বিদেশ > বাহরাইনে বড় হামলাটি ইরান নয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রই চালিয়েছিল’

বাহরাইনে বড় হামলাটি ইরান নয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রই চালিয়েছিল’

  • রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১৬:১৮
  • ৪৯

---

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের দশম দিনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বাহরাইন–এ ঘটে যাওয়া রহস্যময় বিস্ফোরণ। প্রাথমিকভাবে এটিকে ইরানের ড্রোন হামলা বলা হলেও, পরে দেশটি স্বীকার করেছে—ঘটনায় যুক্ত ছিল একটি মার্কিন পরিচালিত প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবস্থা–এর ইন্টারসেপ্টর।


বিস্ফোরণের রাত: আতঙ্কে কেঁপে ওঠে মানামা

গত ৯ মার্চ ভোরে রাজধানী মানামা–এর উপকূলবর্তী সিত্রা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্তত ৩২ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা ছিল গুরুতর।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়—ধুলায় ঢেকে যাওয়া রাস্তা, ভেঙে পড়া দেয়াল, আহত মানুষের আর্তনাদ—যা একটি যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্যকেই মনে করিয়ে দেয়।


ইরানি ড্রোন না প্যাট্রিয়ট মিসাইল?

ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন উভয়ই দাবি করেছিল, এটি একটি ইরানি ড্রোন হামলার ফল। তবে পরে বাহরাইন প্রথমবারের মতো স্বীকার করে, বিস্ফোরণের সঙ্গে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল জড়িত ছিল।

সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, মিসাইলটি আকাশে একটি ড্রোন প্রতিহত করেছিল এবং জীবন রক্ষা করেছে। তবে কীভাবে বেসামরিক এলাকায় এত বড় ক্ষয়ক্ষতি হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।


প্রমাণের অভাব: প্রশ্নের মুখে সরকারি দাবি

বাহরাইন বা ওয়াশিংটন—কেউই এখন পর্যন্ত ইরানি ড্রোন জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করেনি। ফলে বিশ্লেষকদের মধ্যে সন্দেহ বাড়ছে—এটি কি সত্যিই ড্রোন হামলা ছিল, নাকি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনা?


যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা: ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা বনাম সস্তা ড্রোন

এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এনেছে—অল্প খরচের ড্রোন মোকাবিলায় অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কৌশলে বড় ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, একটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের বিস্ফোরণ নিজেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে—যা মাহাজ্জার ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে।


জ্বালানি অবকাঠামোও ঝুঁকিতে

সিত্রা দ্বীপে অবস্থিত তেল শোধনাগার ওই রাতেই হামলার শিকার হয় এবং পরে ‘ফোর্স মেজিউর’ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

এটি দেখায়, শুধু সামরিক নয়—জ্বালানি অবকাঠামোও এখন সরাসরি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।


মার্কিন প্রতিক্রিয়া: অস্বীকার ও নীরবতা

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তারা কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি পেন্টাগন।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শুধু বলেন, ইরানের ড্রোন ও মিসাইল সক্ষমতা “গুঁড়িয়ে দেওয়া” হচ্ছে।


অতীতের ছায়া: ভুল লক্ষ্যবস্তু হামলার অভিযোগ

এর আগেও ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর দায় থাকার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো বা ভুল ‘টার্গেটিং ডেটা’র কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের ঘটনাটিও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—প্রযুক্তিগত ভুল কি যুদ্ধকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে?


উপসংহার: নিরাপত্তা না নতুন ঝুঁকি?

প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাধারণত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—এ ধরনের প্রযুক্তি কি কখনো কখনো নতুন ঝুঁকিও তৈরি করছে?

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিটি প্রতিরক্ষা পদক্ষেপই নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে—আর তার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/7944 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 01:04:02 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh