• হোম > বিদেশ > লারিজানি হত্যার প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

লারিজানি হত্যার প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

  • বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৪২
  • ৮৫

---

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র তেহরান নতুন এক সংকটের মুখে পড়েছে। ধারাবাহিক বিমান হামলায় দেশের কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্ব নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিশোধের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

স্থানীয় সময় বুধবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। লারিজানির মৃত্যুর এক দিন পর দেওয়া এই বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ফোঁটা রক্তের মূল্য খুনিদের পরিশোধ করতে হবে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি লারিজানিকে একজন “বুদ্ধিমান ও অঙ্গীকারবদ্ধ” ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানানোই প্রমাণ করে যে ইসলামের শত্রুদের কাছে লারিজানি কতটা ভয়ের কারণ ছিলেন।

তেহরানে ধারাবাহিক হামলা

গত সোমবার রাতে তেহরানে চালানো এক বিমান হামলায় আলী লারিজানি তার পুত্রসহ নিহত হন। এই হামলাকে ইসরায়েলি বাহিনীর টার্গেটেড আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

একই রাতে পৃথক আরেকটি হামলায় নিহত হন ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি। এই দুই হামলার পরই দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

কিন্তু পরিস্থিতি সেখানেই থেমে থাকেনি। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তেহরানে আরও একটি বিমান হামলা চালানো হয়। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিব।

একই শহরে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসমাইল খতিবের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে “কাপুরুষোচিত” বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, যারা এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তার মতে, এই ধরনের টার্গেটেড হামলা শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়—বরং একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর আঘাত।

রাজনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকদের মতে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ইরানের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হওয়ায় তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং আধা-সামরিক কাঠামোর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরে নেতৃত্ব হারানো যে কোনো রাষ্ট্রের জন্যই একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।

এর ফলে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ এখন ইরান সরকারের সামনে অন্যতম বড় অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিশোধের আশঙ্কা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

মোজতবা খামেনির প্রতিশোধমূলক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তাদের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের টার্গেট করে চালানো হামলার জবাব তারা দেবে। অতীতেও এমন হামলার পর ইরান বিভিন্নভাবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তা শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মানবিক উদ্বেগ

রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি মানবিক উদ্বেগও বাড়ছে। যুদ্ধ বা প্রতিশোধমূলক হামলা বাড়লে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশেষ করে তেহরানের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বিমান হামলা হলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/7853 ,   Print Date & Time: Friday, 9 October 2026, 01:02:08 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh