• হোম > এক্সক্লুসিভ | বাংলাদেশ | রাজনীতি > গণভোটের ম্যান্ডেট ভুলে যাওয়া বিএনপির স্বৈরাচারের পথে হাঁটার প্রথম ধাপ: সারজিস

গণভোটের ম্যান্ডেট ভুলে যাওয়া বিএনপির স্বৈরাচারের পথে হাঁটার প্রথম ধাপ: সারজিস

  • মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২১:২৭
  • ৫৫

সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠনক সারজিস আলম বলেছেন, বিএনপি প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট নিয়ে তারা সরকার গঠন করেছে। কিন্তু হ্যাঁ ভোট পেয়েছে ৭০ ভাগ। বিএনপি যদি তাদের জায়গা থেকে ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে মানুষের এত বড়ো একটা ম্যান্ডেট ভুলে যায়, গণভোটের চাওয়া ভুলে যায়, তাহলে আমরা মনে করি এটা বিএনপির স্বৈরাচারের পথে হাঁটার প্রথম ধাপ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁওলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সমিরউদ্দীন স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে হল রুমে কর্মী সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, জুলাই সনদ কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা নয় বরং এটা পুরো বাংলাদেশের মানুষের এজেন্ডা। যে এজেন্ডার ভিত্তিতে একটা গণভোট হয়েছে, দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সংবিধান বলি আর যাই বলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে যেটা বলছেন, সংবিধান করা হয় জনগণের জন্য, সরকার পরিচালিত করে বা পরিচালিত হয় জনগণের জন্য, রাষ্ট্র হচ্ছে জনগণের জন্য, জনগণের উদ্যোগে কোনো কিছু না। এই বাংলাদেশের সংবিধানই বলছে যে জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী, তাহলে সেই জনগণ যখন ম্যান্ডেট দেয় যে আপনার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে, আপনি যদি সংবিধানের দোহাই দেন তাহলে আমরা মনে করি যে আপনি আবার নতুন করে পূর্বের মতো ওই ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চান এবং এবারে এই বাংলাদেশের মানুষ, এই মুক্তিকামী মানুষ তারা আর কাউকে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে দেবে না, স্বৈরাচার হতেও দেবে না। এটার জন্য আমাদের সংসদ থেকে শুরু করে রাজপথ যেখানেই যেইভাবে এটা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন হয় বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা এটা প্রতিরোধ করব।

সারজিস আলম বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, খুন হচ্ছে। এগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সরকার। এটা যদি হয় তাহলে দেশের যে শৃঙ্খলা শান্তি অগ্রগতি এটা কিন্তু সম্ভব হবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জেলা পরিষদ, কর্পোরেশনের প্রশাসক  নিয়োগ দিয়েছি সরকার। এখন শোনা যাচ্ছে উপজেলা ও পৌরসভাতেও নাকি প্রশাসক দেবে তারা। এই প্রশাসক দেওয়া হচ্ছে তাদের যেই নেতাকর্মীরা হেরে গিয়েছে কিংবা যারা মন খারাপ করে আছে তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হয়েছে এটা। তারা এটাকে আরেকটা লুটপাটের ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করছে। তারা নির্বাচিত সরকার হয়ে প্রত্যেকটা জায়গায় প্রশাসক দেওয়া শুরু করেছে। এরপরে এই প্রশাসকদেরকে দিয়ে তারা বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করবে, জনগণকে দেওয়া সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা খালি দলীয় লোকদেরকে দেবে। এরপরে ওই লোকটাকেই তারা ওই পদে আবার নির্বাচিত করার চেষ্টা করবে। তাহলে এটা তো স্বৈরাচারের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটা ধাপ।

সারজিস আলম বলেন, এ রকম করে পুরো বাংলাদেশের জনগণের ওপরে ক্ষমতা ছেড়ে না দিয়ে তারা যদি ক্ষমতাকে বিভিন্ন পদে প্রশাসক বসিয়ে কুক্ষিগত করতে চায়, আমরা শুধু একটা কথাই বলতে চাই যে, এই বাংলাদেশে কোনো স্বৈরাচার স্থায়ী হতে পারেনি, আগামীতেও যদি কেউ চেষ্টা করে স্থায়ী হতে পারবে না।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/7760 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 02:21:29 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh